রাণীশংকৈলের মাঠজুড়ে হলুদ হাসি, সরিষায় উজ্জ্বল সম্ভাবনা
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
শীতের কুয়াশা পেরিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় এখন প্রকৃতির গায়ে লেগেছে হলুদের ছোঁয়া।
বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দিগন্তজোড়া সরিষার ফুলে রঙিন হয়ে উঠেছে গ্রামবাংলা। বাতাসে ভাসছে ফুলের মৃদু সুবাস, আর কৃষকের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে স্বস্তি ও আশার আলো।
অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত বীজের ব্যবহার, সঠিক সময়ে বপন ও নিয়মিত পরিচর্যার ফলে চলতি রবি মৌসুমে উপজেলায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে রাণীশংকৈলে ৭ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭০০ হেক্টর বেশি।
স্বল্প খরচে ও কম সময়ে ফলন পাওয়ায় সরিষা চাষ দিন দিন কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। মাঠভরা হলুদ ফুল শুধু ফসলের সম্ভাবনাই নয়, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষকের স্বপ্নকেও নতুন রঙে রাঙাচ্ছে।
সরিষার ফুল ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরাও। কাশিপুর ইউনিয়নের কাদিহাট মালিবস্তি এলাকায় শতাধিক মৌবক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মৌচাষি আব্দুস সাত্তার।
তিনি জানান, চলতি মৌসুমে ১৫–২০ দিন অবস্থান করে প্রায় ১৫–২০ মন মধু সংগ্রহের আশা করছেন।
এসব মধু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রির পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও সরবরাহ করা হবে। বর্তমানে প্রতি কেজি খাঁটি মধু ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক মঞ্জুর আলম, মাহিম ও সোহেল রানাসহ অনেকেই বলেন, সরিষা চাষের মাধ্যমে একদিকে ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অন্যদিকে নিজ এলাকাতেই খাঁটি মধু পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এতে কৃষক ও সাধারণ মানুষ—উভয়ই উপকৃত হচ্ছেন।
চলতি মৌসুমে উপজেলার কৃষকরা বারি সরিষা-৭, ৮, ১৪, ১৮ ও ২০; বিনা সরিষা-৪, ৯, ১০ ও ১১ এবং বাউ সরিষা-৪ থেকে ৮ জাতের মতো বিভিন্ন উন্নত জাতের সরিষার আবাদ করেছেন। এসব জাত স্বল্প জীবনকাল, উচ্চ ফলনশীল এবং বেশি তেল ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
কাশিপুর ইউনিয়নের পাটাগড়া গ্রামের কৃষক বাবুল হোসেন জানান, প্রথমবারের মতো দুই বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন।
প্রতি বিঘায় প্রায় পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। দাম ভালো পেলে প্রতি বিঘা থেকে প্রায় পনেরো হাজার টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি।
নন্দুয়ার ইউনিয়নের বেল্লাল, বাচোর ইউনিয়নের মামুন এবং হোসেনগাঁও ইউনিয়নের লিটন আলী জানান, আমন ধান কাটার পর বোরো চাষের আগ পর্যন্ত খালি পড়ে থাকা জমিতে সরিষা আবাদ করে তারা জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করছেন, পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এ বছর ঘন কুয়াশা তুলনামূলক কম থাকায় সরিষার ফসল ভালো হয়েছে এবং উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে।