রোগা হওয়ার বন্দিত্ব: চীনের ‘ফ্যাট প্রিজন’ কি স্বাস্থ্যচর্চার নতুন রূপ?
Mousumi Nargis lucky |
প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:১৮
ওজন কমানো—শুনতে সহজ হলেও বাস্তবে এটি ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও দীর্ঘমেয়াদি জীবনযাপনের পরিবর্তনের দাবি রাখে।
তবু দ্রুত ফল পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা মানুষকে নিয়ে যাচ্ছে অভিনব, কখনো আবার বিতর্কিত পথের দিকে।
এমনই এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সম্প্রতি নেটমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে—চীনের তথাকথিত ‘ফ্যাট প্রিজন’ বা রোগা হওয়ার জেল।
নাম শুনে অপরাধীদের কারাগার মনে হলেও, বাস্তবে এটি একটি কঠোর ওজন কমানোর ক্যাম্প।
এখানে অর্থের বিনিময়ে মানুষ স্বেচ্ছায় ‘বন্দি’ হচ্ছেন, উদ্দেশ্য একটাই—স্বল্প সময়ে উল্লেখযোগ্য ওজন ঝরানো।
২৮ দিনের এই ক্যাম্পে থাকতে খরচ পড়ছে প্রায় এক হাজার মার্কিন ডলার।
এই ফ্যাট প্রিজনের ধারণা নতুন করে আলোচনায় আসে এক অস্ট্রেলিয়ান নেটপ্রভাবীর ভাইরাল ভিডিওর মাধ্যমে।
তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়ার উচ্চ বেতনের চাকরি ছেড়ে একঘেয়ে জীবন ভাঙতে ও শরীর বদলাতে তিনি ভর্তি হন চীনের এই ক্যাম্পে।
তাঁর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, এখানে জীবনযাপন পুরোপুরি সামরিক কায়দায় নিয়ন্ত্রিত।
দিন শুরু হয় সকাল সাড়ে সাতটায়।
প্রতিদিন সকালে ও রাতে বাধ্যতামূলক ওজন পরীক্ষা, নির্দিষ্ট সময় ধরে অ্যারোবিক্স, কার্ডিও, ভারোত্তোলন, হাই ইনটেনসিটি ট্রেনিং ও স্পিনিং ক্লাস—সব মিলিয়ে শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা অত্যন্ত কঠোর।
খাবারও নিয়ন্ত্রিত—ডিম, সবজি, ফল ও পরিমিত প্রোটিনের বাইরে কিছু নেই।
মোবাইল ফোনসহ কোনো গ্যাজেট ব্যবহারের অনুমতি নেই, চারপাশ ঘেরা উঁচু কংক্রিটের দেয়াল এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি—সবকিছুই যেন সত্যিকারের জেলের আদলেই তৈরি।
নেটপ্রভাবীর দাবি, এই কঠোর নিয়মের মধ্য দিয়ে তিনি এক মাসে প্রায় ছয় কেজি ওজন কমাতে সক্ষম হয়েছেন।
চীনে স্থূলতায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায়, এমন ক্যাম্পের চাহিদাও বাড়ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত ওজন কমানোর এই পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে কতটা স্বাস্থ্যসম্মত—সে প্রশ্ন এখনো থেকেই যাচ্ছে।