শালবন বিহার: ইতিহাসের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এক নীরব মহাকাব্য
Mousumi Nargis lucky |
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:০৪
বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতা ও ঐতিহ্যের এক অনন্য দলিল শালবন বিহার। কুমিল্লার লালমাই-ময়নামতি প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই অষ্টম শতাব্দীর বৌদ্ধ বিহারটি একসময় ছিল উপমহাদেশের জ্ঞানচর্চার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
দেব বংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এই স্থাপনার নির্মাতা বলে ইতিহাসবিদদের ধারণা।
কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার পশ্চিমে কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত শালবন বিহার একটি পরিকল্পিত বর্গাকার স্থাপনা। চারপাশে ১১৫টি ভিক্ষু কক্ষ এবং মাঝখানে একটি কেন্দ্রীয় মন্দির—এই বিন্যাস প্রাচীন বৌদ্ধ স্থাপত্যশিল্পের উন্নত রুচির পরিচয় বহন করে।
ধারণা করা হয়, সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে এই বিহার নির্মিত ও পুনর্নির্মাণ করা হয়। এক সময় এই অঞ্চল ছিল শাল ও গজারি গাছে ঘেরা ঘন অরণ্য। সেই বনভূমির নাম থেকেই এর নামকরণ—শালবন বিহার।
দীর্ঘদিনের প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ফলে এখানে পাওয়া গেছে পোড়ামাটির ফলক, ব্রোঞ্জ মূর্তি, সিলমোহর ও বিভিন্ন যুগের মুদ্রা। এসব নিদর্শন বর্তমানে ময়নামতি জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে, যা আমাদের সমৃদ্ধ অতীতের কথা নীরবে বলে চলে।
আজ শালবন বিহার শুধু একটি ধ্বংসাবশেষ নয়—এটি বাংলাদেশের বৌদ্ধ ঐতিহ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত স্মারক, যেখানে দাঁড়ালে ইতিহাস যেন নিঃশব্দে কথা বলে।