বিশ্বকাপে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রেই খেলতে হবে
বিশ্বকাপ ফুটবলের মহোৎসব শুরু হতে বাকি আর মাত্র এক মাসের কিছু বেশি সময়। অথচ বৈশ্বিক এই আসরে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার মেঘ যেন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। একদিকে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, অন্যদিকে ভেন্যু নিয়ে ফিফার অনড় অবস্থান- সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন বেশ জটিল। এই সংকট নিরসনে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন।
গত বৃহস্পতিবার কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত হয় ফিফা কংগ্রেস। সেখানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল ইরানি প্রতিনিধি দলের। কিন্তু টরন্টো বিমানবন্দরে কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের ‘অগ্রহণযোগ্য আচরণের’ মুখে পড়েন তারা। এর প্রতিবাদে কংগ্রেস বর্জন করে দেশে ফিরে যান প্রতিনিধিরা। শুক্রবার তেহরানে ফিরে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ সাফ জানিয়ে দেন, অনেক অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য তারা শিগগিরই ফিফার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবেন।
ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন জানিয়েছে, ফিফার সাধারণ সম্পাদক মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। আগামী ২০ মের মধ্যে ইরানি প্রতিনিধি দলকে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠকেই নির্ধারিত হবে ইরানের বিশ্বকাপ ভাগ্য।
ইরানের বিশ্বকাপ যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন করেছিল ইরান। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বরাবরই ইরানের সেই আবেদন নাকচ করে আসছেন। ভ্যাঙ্কুভার কংগ্রেসেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রেই খেলতে হবে।
বাছাইপর্ব পার করে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকেট পাওয়া ইরান পড়েছে ‘জি’ গ্রুপে। সূচি অনুযায়ী আগামী ১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা। একই ভেন্যুতে ২১ জুন বেলজিয়াম এবং ২৭ জুন সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে দলটির।
উল্লেখ্য, আগামী ১১ জুন উত্তর আমেরিকায় পর্দা উঠবে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর, যা শেষ হবে ১৯ জুলাই। এখন ফুটবল বিশ্বের নজর ২০ মের বৈঠকের দিকে, ইরান কি শেষ পর্যন্ত বিশ্বমঞ্চে মাঠে নামবে, নাকি অনিশ্চয়তা বজায় থাকবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত?