ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ১-১ সমতায় শেষ হলো টি-টোয়েন্টি সিরিজ
ইনিংসের ১২তম ওভারের চতুর্থ বলে বেভন জ্যাকবসের দারুণ এক স্লগ সুইপ। রিশাদ হোসেনকে আছড়ে ফেললেন ডিপ মিড উইকেটের ওপারে গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের দ্বিতীয় তলায়। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের বৃষ্টিবিঘ্নিত শেষ টি-টোয়েন্টিতে জ্যাকবসের ৩১ বলে ৬২ রানের ইনিংসে ভর করে ১০২ রান কিউইরা তাড়া করল ২০ বল হাতে রেখে। শনিবার ১৫ ওভারে নেমে আসা এই ম্যাচ ৬ উইকেটে জিতে ১-১ সমতায় সিরিজ শেষ করল নিউজিল্যান্ড। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ পরিত্যক্ত হয় বৃষ্টিতে।
এই ম্যাচ জিততে পারলে ইতিহাস গড়া হতো বাংলাদেশের। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এর আগে তিনবার ওয়ানডে সিরিজ জিতলেও কখনোই টি-টোয়েন্টি সিরিজ জেতা হয়নি টাইগারদের। টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলেও একইসাথে দুই ফরম্যাটের সিরিজ জেতার ইতিহাসও লেখা হতো লিটনদের। সেই পথে হাঁটা হয়নি ব্যাটারদের ব্যর্থতায়।
রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই নতুন বলে শরীফুল ইসলামের তোপে পড়ে কিউইরা। নিজের করা প্রথম ওভারেই নেন দুই উইকেট। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ফিফটি করা কাটেনে ক্লার্ককে ফিরিয়েছেন দারুণ এক ইনসুইংগারে। একই ওভারের শেষ বলে একইভাবে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ডিন ক্লেভার। যদিও জোরালো আবেদনের পরেও অনফিল্ড আম্পায়ার আউট দেননি। কিন্তু রিভিউয়ের পর দেখা যায় ব্যাটের কানা ছুঁয়ে গেছে বল। নিজের শেষ ওভারের প্রথম বলে উড়িয়েছেন টিম রবিনসনের উইকেটে। যদিও সেই ওভারেই আরো ১৫ রান খরচা করেছেন শরীফুল।
বাংলাদেশে ম্যাচে লড়াই যা করেছে, শরীফুলের হাত ধরেই। এরপর শেখ মাহেদী নিক কেলির উইকেট পেলেও সেটা ম্যাচ জেতাতে যথেষ্ট ছিল না। কারণ পুঁজিই ছিল ১০২ রানের। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় বাকি পথটা নিউজিল্যান্ড পাড়ি দিয়েছে জ্যাকবস আর ফক্সক্রফটের ব্যাটে। দুজনের ৪০ বলে ৭১* রানের জুটিতে ম্যাচের ফলাফল নিশ্চিত হয় কিউইদের।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার আগেই ৩৫ রানের মধ্যে প্রথম তিন ব্যাটারকে হারায় বাংলাদেশ। দলীয় ২১ রানে সাইফ হাসানের বিদায় দিয়ে শুরু। জেইডেন লেনক্সকে তুলে মারতে গিয়ে রবিনসনের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন এই ডানহাতি, করেছেন ১৬ রান। নাথান স্মিথের সোজা বল এক্রস দ্য লাইনে খেলতে গিয়ে লাইন মিস করে বোল্ড হয়েছেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান। সেই ওভারের পরের বলেই বুক বরাবর ধেয়ে আসা বাউন্সারে শেষ মুহূর্তে আপার কাট খেলার চেষ্টায় থার্ডম্যানে ক্যাচ দেন পারভেজ ইমন।
এরপর পাল্টা জবাব দেন লিটন দাস। ১৩ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় করেন ২৫ রান। যদিও দুপুর ২টা ৩৭ মিনিটে আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামায় খেলা বন্ধ থাকে ১ ঘন্টা ৫৩ মিনিট। কার্টেল ওভারে শুরু হওয়া ম্যাচে অবশ্য বিরতির পরই ধসটা নামে। শেষ ৭ উইকেট পড়েছে মাত্র ৩৯ রানের ব্যবধানে।
৬৩ রানের মাথায় ক্লার্কসনের বলে জ্যাকবসের হাতে ক্যাচ দেন লিটন, তার সংগ্রহ ১৭ বলে ২৬। দ্বিতীয় ম্যাচ জেতানো শামীম পাটোয়ারী ফিরেছেন ইশ সোধির ফুলটসে রিভার্স সুইপ করে ক্যাচ দিয়ে। ২৪ বলে ৩৩ রান করা হৃদয় ফিরেছেন ১৩-তম ওভারের প্রথম বলে ক্লার্কসনের দ্বিতীয় শিকার হয়ে। পরের বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তানজিম সাকিবের জায়গায় দলে আসা সাইফউদ্দিন। দলীয় শতরান পেরোনোর আগে রিশাদ কাটা পড়েছেন রান আউটে। শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে সিয়ার্সের টানা ইয়র্কারে বোল্ড হয়েছেন শরীফুল ও রিপন। দুটি করে উইকেট নেন স্মিথ ও সিয়ার্স। তিন উইকেট নেন ক্লার্কসন।