দুর্নীতি ও ফ্যাসিবাদমুক্ত মানবিক বাংলাদেশের অঙ্গীকার : চৌদ্দগ্রামের জনসভায় জামায়াত আমির
নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশবাসী আর কোনো আধিপত্যবাদ, ফ্যাসিবাদ কিংবা দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার দেখতে চায় না—চায় মানবিক বাংলাদেশ।
শনিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত জনগণের রায়ে ক্ষমতায় গেলে কুমিল্লা-১১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে মন্ত্রিপরিষদের সিনিয়র সদস্য হিসেবে দায়িত্বে দেখতে পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, “এই প্রতিশ্রুতি আমি দিচ্ছি। চৌদ্দগ্রামবাসী এই সুযোগ কাজে লাগাবেন কি না, সেটি আপনাদের সিদ্ধান্ত।”
যুবসমাজকে রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা এই বাংলাদেশ যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। এর প্রমাণ হলো—আমাদের মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ৬২ শতাংশই তরুণ। যুবকরাই আমাদের শক্তি।”
ন্যায়বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
এমনকি যারা এ দেশে বসবাস করেন কিন্তু নাগরিক নন, তারাও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রাখেন। বিচার বিভাগে কোনো রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না বলেও জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, জাতি, ধর্ম ও বর্ণের বিভাজনের রাজনীতি দেশ ও জনগণকে পিছিয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক মতভেদের কারণে নির্যাতন, খুন ও গুমের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা আর এই বিভক্তির রাজনীতি চাই না। এবারের বন্দোবস্ত হবে জনগণের সেবার জন্য সরকার গঠন করা। নির্বাচিত হলে আর কোনো বিভাজন হতে দেব না ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠবে তারুণ্যনির্ভর, যৌবনদীপ্ত বাংলাদেশ। সব বাধা অতিক্রম করে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা হবে।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাব। তবে অপরাধের কোনো সুযোগ থাকবে না—চাঁদাবাজি, ব্যাংক ডাকাতি বা অন্যায়কে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।”
জুলাইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, “যে জুলাই আমাদের জনগণের প্রতিনিধিত্বের পথে নিয়ে এসেছে, তাকে সম্মান করতে হবে। সেই জুলাইকে ধারণ করেই ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থে এগিয়ে যেতে হবে।”
শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বর্তমান শিক্ষা দিয়ে একটি শক্তিশালী জাতি গড়া সম্ভব নয়। বেটার এডুকেশন মানেই বেটার নেশন। শিক্ষা সংস্কারে বড় পরিবর্তন আসবেই, ইনশাআল্লাহ।”
১১ দলীয় জোটের এই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও কুমিল্লা-১১ আসনের প্রার্থী ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাসুম, আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।
জনসমাবেশ শেষে নেতাকর্মীদের মধ্যে নির্বাচন ঘিরে ঐক্য ও সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।