ইরান যুদ্ধ নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলরের সঙ্গে বিরোধ, ৫ হাজার সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

Tanjir Khan Rony | প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ১২:৩৭
ইরান যুদ্ধ নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলরের সঙ্গে বিরোধ, ৫ হাজার সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার জেরে জার্মানি থেকে ৫০০০ সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। গত শুক্রবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পেন্টাগন উল্লেখ করে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউরোপীয় নেতাদের নীতিগত পার্থক্যের কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মার্জের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের পর এই অচলাবস্থা তৈরি হয়। চ্যান্সেলর মার্জের বলেন, ইরান যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে অবজ্ঞা করছে। এছাড়া যুদ্ধের কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা প্রস্থান পরিকল্পনা না থাকায় তিনি ওয়াশিংটনের সমালোচনা করেন। পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান, জার্মানির এমন অবস্থান অত্যন্ত অনুপযুক্ত এবং অসহযোগিতামূলক, যার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রেসিডেন্ট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


বর্তমানে জার্মানিতে প্রায় ৩৫০০০ মার্কিন সামরিক কর্মী মোতায়েন রয়েছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে ৫০০০ সৈন্য প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষ হবে। এর ফলে ইউরোপে মার্কিন সেনাসংখ্যা ২০২২ সালের আগের অবস্থানে ফিরে আসবে, যা ইউক্রেন যুদ্ধের সময় জো বাইডেন বৃদ্ধি করেছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে, ইউরোপের নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্ব ইউরোপীয় দেশগুলোরই হওয়া উচিত। তবে অনেক বিশ্লেষক একে ট্রাম্পের প্রতি মিত্রদের আনুগত্য প্রমাণের চাপ হিসেবে দেখছেন।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু জার্মানি নয়, ইরান যুদ্ধে সমর্থন না দেওয়া অন্যান্য ন্যাটো সহযোগীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থার কথা ভাবছে ওয়াশিংটন। স্পেন তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারে বাধা দেওয়ায় ট্রাম্প দেশটিকে ন্যাটো থেকে স্থগিত করার বা বাণিজ্যিক অবরোধ আরোপের হুমকি দিয়েছেন। একইভাবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সাথেও ট্রাম্পের সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। এমনকি যুদ্ধে পূর্ণ সমর্থন না দিলে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে যুক্তরাজ্যের দাবির বিষয়ে মার্কিন সমর্থন পুনর্বিবেচনার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে পেন্টাগন।


এদিকে জার্মান সামরিক কর্মকর্তারা এই ঘোষণায় অবাক হয়েছেন, কারণ তারা ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে সহযোগিতা করছেন। এছাড়া জার্মানিতে অবস্থিত বড় মার্কিন সামরিক হাসপাতালের গুরুত্বের কথাও তারা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞদের জানান, এই সেনা প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে বিভাজন আরও স্পষ্ট করবে। এর ফলে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন ওয়াশিংটনকে অনির্ভরযোগ্য মনে করতে পারে এবং নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারে আরও বেশি মনযোগী হবে।

মন্তব্য করুন

Login to comment

আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

Global Before Footer