পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল না বিজেপিই বাজিমাত, ভোটের জরিপ কী বলছে
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে বুথফেরত সমীক্ষার ফলাফল ধীরে ধীরে সামনে আসছে, আর সেগুলোতে দেখা যাচ্ছে মিশ্র কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিজেপির কিছুটা এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন জরিপ সংস্থা তাদের সম্ভাব্য আসন বণ্টনের পূর্বাভাস দিয়েছে, যেখানে বিজেপিকে অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে রাখা হয়েছে।
পি-মার্কের সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে বিজেপি ১৫০ থেকে ১৭৫টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা ১১৮ থেকে ১৩৮-এর মধ্যে থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই জরিপে অন্যান্য দল বা প্রার্থীদের জন্য কোনো আসন উল্লেখ করা হয়নি।
ম্যাট্রিজ় নামে আরেকটি সংস্থার জরিপেও প্রায় একই ধরনের চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিজেপি ১৪৬ থেকে ১৬১টি আসন পেতে পারে, যা তাদের সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত বা তার কাছাকাছি অবস্থান তৈরি করতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ১২৫ থেকে ১৪০টি আসন, আর ছোট দলগুলো মিলিয়ে ৬ থেকে ১০টি আসন পেতে পারে।
পোল ডায়েরি নামের আরেকটি সংস্থার জরিপে আবার তুলনামূলকভাবে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিস্থিতি দেখা গেছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিজেপি ১৪২ থেকে ১৭১টি আসন পেতে পারে, আর তৃণমূল কংগ্রেস ৯৯ থেকে ১২৭টি আসনের মধ্যে থাকতে পারে। এই জরিপ অনুযায়ী বিজেপির সরকার গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে সব সমীক্ষা একমত নয়। কিছু জরিপে তৃণমূল কংগ্রেসকেও শক্ত অবস্থানে রাখা হয়েছে, যেখানে তারা এখনো ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ফলে সার্বিকভাবে ফলাফলকে নিশ্চিতভাবে একপক্ষের দিকে ঝুঁকে গেছে বলা যাচ্ছে না, বরং তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মোট ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮ আসন। সেই হিসেবে কিছু সমীক্ষায় বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি বা তার ওপরে যেতে পারে বলে বলা হচ্ছে, আবার কিছুতে তৃণমূলকেও এগিয়ে রাখা হচ্ছে।
এদিকে নির্বাচনী ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হবে আগামী ৪ মে। তার আগে এই বুথফেরত সমীক্ষাগুলো শুধুমাত্র সম্ভাব্য ধারণা দেয়, যা অনেক সময় চূড়ান্ত ফলের সঙ্গে মিল নাও খেতে পারে, ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে এমন উদাহরণও রয়েছে।